আংটি। ২




 -তুম হঠাৎ করে অনলাইনে আসো আবার আমাকে  কিছু না বলে চলে যাও কেন...? 

-আমি কি হজ করতে যাই নাকি? এত বারবার বলার কি আছে?

-উফ! অসহ্য!

-কি অসহ্য?

-তোমার মাথা!

-অ

-আবার অ? বলছি না ও বলবা?

-অ! স্যরি! ও।

- বাসের মধ্যে বসে বসে সেদিন তুমি আমার বান্ধবী ইরার সাথে কি কথা বলেছ ?

-বলছি আমার ১০০০ টাকার নোট। খুচরো নাই। ভাড়া দিয়ে দেন।

- আরে এটা না । আমি ওকে বলতে শুনেছি ও নাকি ইঞ্জিনের ওপর বসে ছিলো আর তুমি বসে ছিলে সামনের সিটে

-হ্যাঁ। তারপর ইরা বলল ভাইয়া আসেন অদলবদল  করি। খুব গরম লাগছে ইঞ্জিনের ওপর গদিটায়।

-আর তুমি কি করলা..? 

আমি আমার ব্যাগে থাকা পানির বোতল  বের করে দিলাম যাতে ইঞ্জিলের উপর যে সিট আছে সেটাতে পানি দিয়ে বসতে পারে   ইঞ্জিল অনেক গরম তাই ছিলো তাই   

-ওই! তুমি মানুষ হবা না? বাসের সব মানুষ হেসে ফেলছে! ইরা মাইন্ড করছে খুব।

-মাইন্ড করলে আমার কি?

-তোমার কি মানে? ও আমার বান্ধবী। আর তোমাকে না বলছিলাম ভাইয়ার সাথে দেখা করতে। ভাইয়া তোমাকে দেখবে বলেছে। দেখা করেছো?

-আমি কি চিড়িয়াখানার জন্তু? দেখার কি আছে?

-উফ! আমি ভাইদের একমাত্র বোন। তারা কি না দেখেই আমাকে বিয়ে দিবে?

-দেখবে না কেন? তারা কি অন্ধ নাকি?

-  তুমি কি আমার কথা তোমার বাবা-মায়ের কাছে বলেছ  ?

-উনারা কানে শোনেন না!

-সে কি!  কবে থেকে?

-যেদিন আমাকে বাসায় বিয়ের কথা বলতে বলছো সেদিন থেকে।

-ওহ! খোদা! তুমি মানুষ হবা না?

-আমি কি অমানুষ নাকি?

-উফ! তোমায় নিয়ে আর পারি না!

-আমার সাথে পেরে ওঠার এত শখ কেন?

-শখ না খায়েশ।

-কিসের খায়েশ?

-তোমার চুলগুলো টেনে তোলার।

-তোমার সামনে এলে তো তুলবা!

-কতদিন না এসে থাকবা?

-যতদিন তোমার বাপে যৌতুক দিতে রাজি না হয়!

-অই!

-কি?

-তোমাকে কিন্তু চাবাইয়া খেয়ে ফেলব যদি সামনে পাই!

-কয়দিন হলো ভাত খাও না?

- উফ!তোমার কি কিছুতেই সিরিয়াসনেস নাই?

-আছে তো।

-কিসে?

-অই যে কছিম মামার সাথে লুডু খেলার সময়।

-আমার অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে গেলে বুঝবা! কি করবা তখন? হু?

-ভিক্ষুককে টাকা দিব।

-কেন?

-আমাকে চিবিয়ে চিবিয়ে খেতে পারবা না তাই!

-খোদা! পায়ে ধরি! মাফ চাই! ভালোভাবে কথা বলো প্লিজ! প্লিজ! 

- আশেপাশে কেউ নাই তো। কার সাথে বলব?

-আমার সাথে?

-তোমাকে তো মেসেজ লিখি!

-জান বলছি! প্লিজ এমন করে না। 

-কেমন করি?

-উফ! অসহ্য! আমার মাথা! মুণ্ডু! মুড়ি খাও তুমি বসে বসে!

-তুমি ভেজে দিও তাহলে। বয়ামে ভরে রাখবনি।

-শয়তান!  একবার যদি তোকে আমি সামনে পাইতাম তাহলে দেখতে কি করি   ...! আমরা কিন্তু চাইলে আজকে বিকালে দেখা করতে পারি  ?

-নাহ!

-কেন?

-তুমি মাইর দিবা!

-নাহ। দিব না। দরকার আছে একটু প্লিজ?

-আমার সময় নাই বিকেলে।

-কেন কি করবা?

- আরে তোমার মনে নেই আমি যে তোমাকে একবার বলেছিলাম একটা মেয়ে আমাকে ওয়াইফাই এর পাসওয়ার্ড দিয়েছে  ওই তো সে মেয়েটা আমাদের বাড়িওয়ালার মেয়ে ওকে নিয়ে একটু ঘুরে আসব  ধানমন্ডি লেক ।

-অই! আমি কিন্তু তোকে খুন করে ফেলব!

-তাহলে আমার নাবিলার কি হবে?

-তোর নাবিলা মানে?

-আমার আম্মার তো নাবিলাকেই পছন্দ। আম্মাকে ছবি দেখিয়েছিলাম নাবিলার। আম্মা বলল, কি মিষ্টি মেয়ে!

-তোকে এমন মিষ্টি খাওয়াব!বাকি জনমে আর মিষ্টি মিষ্টি করবি না!

- শোনো রূপা! এত কথার দরকার নাই। তোমার সাথে ব্রেক আপ আমার এখন! এই মুহুর্ত থেকে।

- কী!

- হ্যাঁ।

-ঠিক আছে। তোর কাছে আমার যা যা আছে সব দিয়ে দে।

-আমার কাছে তোমার কিছুই নাই।

-কিছুই নাই মানে? কত কিছু আছে !  কিছুদিন আগেই যে আমি তোমাকে একটি টি শার্ট কিনে দিয়েছি সেটার কথা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে চলবে নাকি  ।

-ওটা দিয়ে আমাদের বুয়া ঘর মুছে এখন। দেখবা? ছবি পাঠাবো?

-কী! ঠিক আছে! তুই যে গত মাসে আমাকে রেস্টুরেন্টে শাড়ি দিলি ওটা ফেরত নিয়ে যা। নাহলে আমি পুড়িয়ে ফেলব এখনি।

-আমার কাছে ১০০০ টাকার নোট। রিকশা ভাড়া দেয়ার জন্য খুচরা টাকা নাই । তুমি এসে ফেরত দিয়ে যাও।

শেষ বিকেলে কলিং বেল বাজতেই দরজা খুলে দিলাম। দেখি রূপা দাঁড়িয়ে আছে, হাতে একটা প্যাকেট।  মেয়েটা যে এক দুপুর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছে, সন্দেহ নেই। চোখমুখ ফুলে আছে। মেয়েটা এত পাগল!

বললাম,

-তোমার হাতে কি?

-শাড়ি।

-ড্রাই ওয়াশ করে এনেছো তো?

-মানে? 

-নাবিলাকে তো এটাই দিব আবার।

-বদমাইশ! 

-অ! রুমে এসে বসো। আমি গুছিয়ে দিচ্ছি আমার কাছে তোমার যা যা আছে।

রূপা আমার বিছানায় বসে আছে।

কাছে গিয়ে বললাম, তোমার হাতটা দেখি একটু?

-কেন?

-দরকার আছে।

অনামিকায় আংটি টি আমি রুপার ডান হাতে পড়িয়ে দিলাম,  রুপা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল । 

-ওমা! তুমি আমাকে রিং পরাচ্ছ কেন?

-কি যেনো কথা ছিল?

তোমার সাথে আমার কথা ছিল যদি তুমি চাকরি পাও তাহলে প্রথম মাসের বেতন দিয়ে আমাকে একটি স্বর্ণের আংটি কিনে দেবে এবং একটি লাল শাড়ি কিনে দেবে। 

-হু, তাই তো দিলাম।

-অসভ্য, ফাজিল!  তাহলে এসব কি ছিল?

-ভালোবাসা।

-শয়তান একটা! ভীষণ পাজি তুমি!

রূপা হাসে, রূপা কাঁদে, রূপা রাগে

রূপার চোখ অভিমানে জলে ভিজে

আমার এত বেশি ভালো লাগে!

কিছুক্ষণ  পর রূপা আমার বুকে মাথা রাখলো ! সত্যিই এসব বিষয় গুলো মনে পড়লে মাঝেমাঝে মনে হয় , লাইফ ইজ বিউটিফুল!

#গল্প


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন