ধর্ষণের শাস্তি

 – এই মুহূর্তে একটা চাকরি আমার খুবই দরকার। কেউ যদি আমাকে একটা চাকরি দেন তাহলে আমি সে চির কৃতজ্ঞ থাকবো । ”

লেখাটি ফেসবুকের কয়েকটি গ্রুপে পোস্ট করার কিছুক্ষণ পর থেকে প্রিয়ার ইনবক্সে অনেকেই যোগাযোগ শুরু করে দিল।তো এর মধ্যে একজনের নাম সজীব। প্রিয়াও এতোক্ষণ ধরে সজীবের মেসেজের জন্য অপেক্ষা করছিলো। সজীব ইনবক্সে প্রিয়াকে জিজ্ঞেস করলো,
-- ' আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা কি? '
-- ' অনার্স কমপ্লিট করলাম। '
-- ' আচ্ছা বয়স কত? '
-- ' ২৫ বছর। '
-- ' বাড়ী কোথায় আপনার? '
-- ' কুষ্টিয়ায়। '
-- ' আপনার সিভিটা আমাকে মেইল করুন। '
-- ' ঠিক আছে, আগামীকাল করবো। '
পরদিন প্রিয়া সজীবকে সিভি মেইল করে এবং ইনবক্সে জানায়।কিন্তু দুইদিন পার হয়ে গেলেও সজীব মেসেজের আর রিপ্লাই দেয় নি।প্রিয়া তখন আবার মেসেজ করে। "
-- ' চাকরিটা আমার খুব দরকার। দয়া করে কিছু বলুন। '
এরপর সজীব রিপ্লাই দিলো,
-- ' হ্যা আমি আপনার সিভি আমার স্যারকে দেখিয়েছি। উনি আপনাকে উনার কোম্পানিতে একটা চাকরি দিতে রাজি হয়েছেন। '
-- ' স্যার, আপনি সত্যি বলছেন? '
-- ' হ্যা। তবে আপনাকে যে কাল ঢাকা আসতে হবে। '
-- ' স্যার কাল কি করে আসবো? মানে হঠাৎ করে... '
-- ' হ্যা বুঝতে পারছি। কিন্তু সরাসরি কথা না বলে কি করে চাকরি দিব?'
-- ' স্যার আমাকে দুইটা দিন সময় দিন। '
-- ' সেটা কি করে সম্ভব? স্যারের মন আবার কখন ঘুরে যায়, কে জানে? '
-- ' প্লীজ আর মাএ আমাকে দুইটা দিন সময় দিন প্লিজ । '
-- ' আচ্ছা ঠিক আছে আমি দেখছি স্যারের সাথে কথা বলে কি করা যায়। '
'
'
কিছুক্ষণ পর সজীব আবার প্রিয়াকে মেসেজ করলো,
-- ' স্যার তো পরশু সিঙ্গাপুর চলে যাবেন। কাল যদি কনফার্ম না করা যায় তাহলে হয়তো আর কিছু করতে পারবো না। আপনি এক কাজ করুন। '
-- ' কি কাজ স্যার? '
-- ' আপনার কিছু ফুল ছবি সেন্ড করুন। আমি স্যারকে দেখাই। স্যার যদি আপনাকে পছন্দ করে তাহলে কাল ভিডিও কলের মাধ্যমে নাহয় আপনার সাক্ষাৎকারের নেওয়ার জন্য স্যারকে বলবো। '
-- ' ঠিক আছে আমি এখনি ছবি আপনাকে আমার কিছু চবি পাঠাচ্ছি। '
-- ' ছবিগুলো যাতে ভালো হয় এদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবা। '
-- ' ঠিক আছে স্যার। '
প্রিয়া তখন নিজের সবচেয়ে ভালো ভালো কিছু ছবি সজীবকে পাঠালো। সাথে সাথেই সজীব রিপ্লাই করলো,
-- ' স্যার আপনাকে খুব পছন্দ করেছেন। স্যার আগামী সপ্তাহে বিদেশ থেকে ফিরলেই আপনার সাথে সরাসরি দেখা করবেন। আমি আপনাকে জানাবো কবে আপনাকে ঢাকা আসতে হবে। '
প্রিয়া খুবই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল এত বছর পর অবশেষে প্রিয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এই স্বপ্ন পূরণের জন্য গত তিন বছর ধরে নিজেকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছে প্রিয়া।
এক সপ্তাহ পর সজীব প্রিয়াকে কল দিয়ে ঢাকায় একটা ঠিকানায় দেখা করতে বললো। প্রিয়া নির্দিষ্ট দিনে ঢাকায় সজীবের দেয়া ঠিকানায় এসে হাজির হলো।
-- ' এ কি আপনি এভাবে মুখ ঢেকে রেখেছেন কেন বোরকা দিয়ে? '
-- ' স্যার আমি ইসলামিক পরিবারের মেয়ে পর্দার বিষয়ে আমি খুব সচেতন । '
-- ' আচ্ছা ঠিক আছে আপনি বসেন এখানে। আমি স্যারকে জানাচ্ছি। '
কিছুক্ষণ পরেই সজীব ফিরে এলো,
-- ' আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। স্যার জরুরী কাজে ব্যস্ত আছেন। '
প্রিয়া অপেক্ষা করতে লাগলো। সকাল পেরিয়ে দুপুর হয়ে গেল এখনো প্রিয়ার সাথে কোম্পানির মালিক দেখা করেনি। প্রিয়া খুবই চিন্তায় পড়ে গেল, তবে কি আমার এত দিনের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে?
'
'
-- ' স্যার, বড় বস কখন দেখা করতে ডাকবেন আমাকে... ? '
-- ' এই চাকরি করতে হলে আগে ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিতে হবে। আপনি অপেক্ষা করুন। '
প্রিয়া আবার অপেক্ষা করতে থাকলো। এদিকে বড় স্যারও খুব উত্তেজিত হয়ে আছে প্রিয়ার সাথে দেখা করার জন্য। দুপুর পেরিয়ে বিকেল হলো। একে একে অফিসের সব কর্মচারী চলে গেল।
-- ' স্যার অফিসতো ছুটি হয়ে গেছে। আজকে কি বড় স্যার আর দেখা করবেন না? আমার চাকরিটা কি হবে না? স্যার এই চাকরিটা আমার খুব দরকার।
আরে স্যার দেখা করবেন, আপনার চাকরিও হবে। আসুন আপনি আমার সাথে। '
সজীব প্রিয়াকে নিয়ে বড় স্যারের রুমে ঢুকলো,
-- ' সজীব তুমি এখন চলে যাও প্রয়োজন হলে আমি ডাকবো তোমায় তুমি এখন যাও। '
-- ' জ্বী স্যার। '
সজীব প্রিয়াকে রুমে রেখে চলে গেল। প্রিয়া চারদিকে তাকিয়ে ভালো করে রুমটা দেখতে লাগলো।রুমে এখন অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে শুধু মাত্র বসার চেয়ার টেবিল আর সোফা ছিলো। এখন সাথে একটা ছোট রুম করা হয়েছে। ঐ রুমে নিশ্চয়ই বড় স্যার আরাম করেন।
-- ' কি ভাবছেন মিস প্রিয়া? '
-- ' না স্যার কিছু না। আপনার রুমটা খুব সুন্দর হয়েছে। '



-- ' আপনিও কিন্তু অনেক সুন্দর। কিন্তু মুখ খুলছেন না কেন? '
প্রিয়া মুখের কাপড় টা খুলে ফেললো,
-- ' অপূর্ব সুন্দর আপনি। আপনার মতোই একজনকে খুঁজছিলাম আমি। অনেকদিন পর মনের মতো একজনকে পেলাম। '
-- ' স্যার আমার চাকরিটা হবে তো? স্যার চাকরিটা আমার খুব দরকার। '
-- ' অবশ্যই হবে। তবে এরজন্য আমাকে কিছু দিতে হবে আপনাকে। '
-- ' কি দিতে হবে স্যার? '
-- ' আমাকে খুশী করতে হবে, আমার সাথে একান্ত সময় কাটাতে হবে। '
প্রিয়া চুপ করে মনে মনে ভাবছে, এই সুযোগটার অপেক্ষায় ছিলাম আমি। এবার আমার এত বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।
-- ' কি হলো কি ভাবছেন? এত বড় কোম্পানিতে চাকরি পেতে হলে আমাকে খুশি করতেই হবে। '
-- ' আমি রাজি স্যার। '
প্রিয়াকে নিয়ে বড় স্যার ভিতরের রুমে গেলো,
-- ' দয়াকরে লাইটা অফ করে দিন । '
-- ' থাক না লাইট টা। '
-- ' প্লীজ স্যার আমার লজ্জা লাগে। '
-- ' আচ্ছা ঠিক আছে। '
বড় স্যার লাইট অফ করতেই প্রিয়া সাথে সাথে বড় স্যারের হাত বেঁধে ফেললো।
-- ' কি হচ্ছে এটা? '
প্রিয়া বড় স্যারকে এক ধাক্কায় বিছানায় ফেলে দিয়ে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দিলো।
-- ' স্যার একটু অপেক্ষা করুন প্লিজ। '
এবার প্রিয়া পা দুটো একসাথে বেঁধে ফেললো। ঘটনার আকস্মিকতায় বড় স্যার কিছুই করতে পারলো না।এবার প্রিয়া লাইট অন করলো। আর মুখ থেকে স্কচটেপ খুলে দিল।
-- ' কে তুমি? '
প্রিয়া এবার তার মুখটা বেসিনের পানিতে ধুয়ে তারা আসল রূপে ফিরে আসলো ,
-- ' দেখ আমাকে চিনতে পারিস কিনা? '
-- ' তু...তু... তুমি! '
-- ' হ্যা আমি। চিনতে পেরেছিস তাহলে। '
-- ' কি চাও তুমি? '
-- ' কি চাই আমি? তোর মনে আছে আজ থেকে তিন বছর আগে আমি তোর কাছে চাকরির জন্য এসেছিলাম, তারপর তুই আমাকে জোর করে শ্লীলতাহানি করেছিলি, আমাকে ধ'র্ষণ করেছিলি? সেদিন আমি কিছুই করতে পারিনি। আজকে আমি সেদিনের প্রতিশোধ নিবো। '
-- ' কি! কি করবে তুমি আমার সাথে? '
প্রিয়া হেসে উঠলো। এ হাসি মায়াবী নয় এ হাসি ভয়ঙ্কর।
'
'
'
পরদিন সকালে মিডিয়ায় ব্রেকিং নিউজ হলো,
– ❝ ব্যবসায়ীর অফিসের নিজ কক্ষ থেকে ব্লে'ড দিয়ে ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের পাশে চিরকুটে লেখা, "ধর্ষণের শাস্তি"। ❞
.
সমাপ্ত।।
----------------------------

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন