≈ গল্পঃ আমাদের সংসার ≈ পর্ব - [ ০৩ ]




≈ গল্পঃ আমাদের সংসার ≈

পর্ব - [ ০৩ ]


---------------------------------

নীরা ঘর থেকে বের হয়ে গেল, বাহিরে তাকিয়ে দেখি তখনো বৃষ্টি হচ্ছে। আমি দুচোখ বন্ধ করে কত সময় শুয়ে ছিলাম মনে নেই, হঠাৎ ই নীরার ডাকে চোখ মেলে তাকালাম,

 'চলেন খাবার দেয়া হয়েছে খাবেন ?

আমি আর কোন কথা না বলে ওর সাথে চলে গেলাম খাবার খেতে। যেয়ে দেখি টেবিলে ভুনা খিচুরি আর খাসির মাংস, দেখেই তাড়াতাড়ি খেতে বসে গেলাম। কয়েক বার খাবার মুখে দেবার পর বাবা খেতে বসলো। খাবার খেতে খেতে বাবা বললো 

- সিয়াম বৌমাকে নিয়ে কয়েক দিন  বাহির থেকে ঘুরে আয় ভাল লাগবে।

কথাটা শোনে যেন আমার মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো, মুখে আর খাবার যাচ্ছে না, মনে হচ্ছে এখুনি খাবারের প্লেট টা  ছুড়ে ফেলে দেই। ব্যাপারটা হয়তো নীরা বুঝতে পেরেছিল, তাই বাবাকে বললো, 

- 'না বাবা আমার শরীরটা ভাল না, আমি এখন কোথাও যেতে পারবো না।আর উনি আছে আর কিছু দিন বাংলাদেশে তাই এখানেই সবার সাথে থাকুক।'

নীরার কথা শোনে বাবা আর কিছু বললেন না। আমি মনে মনে বড্ড বেঁচে গেলাম, বাবার উপর যতই রাগ হই না কেন শ্রদ্ধার কারণে বাবার মুখের উপর কোন কিছু বলার মত সাহস আমার নেই। আমিও আর কোন কথা না বলে খাওয়া শেষ করে রুমে চলে আসলাম।

নীরা কিছু সময় পর এসে বিছানায় শুয়ে পড়লো, আমি বারান্দায় যেয়ে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে চিন্তা করতে শুরু করলাম যত দ্রুত সম্ভব আমাকে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। কোন ভাবেই আমার পক্ষে নীরাকে নিয়ে সংসার করা সম্ভব না। দিন যত যাবে হয়তো নীরার প্রতি আমার মায়া বাড়বে আমি দূর্বল হয়ে যেতে পারি ওর ইমোশনের কাছে। না তা কখনোই হতে দেয়া যাবে না। আমি দিয়াকে ভালোবাসি আর দিয়া সব দিক দিয়ে ওর চেয়ে ভাল, সুন্দরি শিক্ষিত স্মার্ট।

বারান্দা থেকে ঘরে চলে আসলাম এসে দেখি নীরা ঘুমিয়ে পড়ছে, শাড়িটা ওর শরীরে ঠিক মত নেই। আমি কোন রকমে দ্রুত ও শাড়ির আচলটা ঠিক করে দিতে যাবো তখনি নীরা চোখ মেলে তাকালো। আমি হাতটা সরিয়ে নিলাম, নীরা ব্যাপারটা খেয়াল করতে পেরে নিজেই শাড়িটা ঠিক করে শুয়ে পড়লো আবার, আমিও অন্যদিকে ঘুরে শুয়ে পড়লাম। নীরা বলে উঠলো, ‘চাদরটা শরীরে টেনে নিন। খুব ঠান্ডা পড়েছে।’

আমি নীরার কথায় কোন কর্ণপাত না করে চুপ করে শুয়ে থাকলাম। কিছু সময় পর নীরা নিজেই চাদরটা আমার শরীরে টেনে দিতেই ওর হাতের কাঁচের চুড়ির শব্দ আমার কানে ভেসে আসলো। নীরব ঝিরঝির বৃষ্টির শব্দের সাথে ওর চুড়ির শব্দটা খুব দারুণ লাগলো। অন্য রকম একটা ভাল লাগা সৃষ্টি হলো মনের ভিতর। আমি নীরার জায়গায় দিয়াকে চিন্তা করতে শুরু করলাম, আচ্ছা দিয়াকে কি চুড়িতে এতো সুন্দর লাগবে? পরক্ষণেই চিন্তা করলাম আমি এইসব কি ভাবছি। দিয়া একজন আধুনিক মেয়ে আর আমিও আধুনিক ছেলে এই সব চিন্তা করা মোটেও ঠিক না। দিয়া ঠিকই বলে বাংলাদেশে এসে আমার কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে ভাবতে ভাবতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়লাম।

ঠান্ডা আর বৃষ্টির কারণে খুব ভাল ঘুম হলো, অনেক দেরীতে ঘুম ভাঙলো। ঘুম থেকে উঠে দেখি বৃষ্টি নেই, সূর্যের আলো জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেছে। নীরাকে দেখলাম না বিছানায় তার মানে ও আগেই উঠে গেছে। আমি ও বিছানা ছেড়ে ওয়াশ রুমে যেয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।

ফ্রেশ হয়ে বের হতেই নীরা বললো, নাস্তা রেডি করেছি এসে খেয়ে নিন। খাবার টেবিলে যেয়ে দেখি সেমাই আর মুড়ি দেয়া আছে, আমি বুঝতে পারলাম নীরা এইসব নাস্তা ইচ্ছে করেই রেডি করছে। ও আমার যা যা পছন্দ তা ইচ্ছে করেই করছে প্রতিদিন। প্রচন্ড রাগ উঠলো নীরার উপর দাঁতে দাঁত চেপে খেতে বসলাম, আমার প্রিয় খাবার হবার পরেও মনে হচ্ছিল যেন পেটে যাচ্ছিল না।

যতটুকু পারলাম খেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লাম। বন্ধুদের সাথে রাগ করে কি থাকা যায়, আমিও পারলাম না, আর বন্ধুরাতো ঐদিন ঠিকই বলেছিল। বন্ধুরা অনেক কিছুই বলতে পারে, নতুন বিয়ের পর বন্ধুরা অনেক রকম মজা করতেই পারে কিন্তু ওরাতো জানে না আসলে,আমি যে কতটা সমস্যার মাঝে আছি। ভাবতে ভাবতে বন্ধুদের ফোন দিতে শুরু করলাম।

অল্প সময়ের ভিতর সব বন্ধুরা চলে আসলো। সবাইকে নিয়ে আড্ডা দিলাম সবাই মিলে প্লান করলাম ঘুরতে যাবো, মজা করবো, আর আমাকে পার্টি দিতে হবে। আমি ও মন ভাল করার জন্য রাজী হয়ে গেলাম। সবাই মিলে ডিসিশন নিলাম গাজিপুরের কোন রিসোর্ট এ যাবো, যেমন ভাবা তেমন কাজ মনকে ফুরফুরে করতে চলে গেলাম গাজিপুরের একটা রিসোর্টে, সারাদিন ঘুরাঘুরি মজা মাস্তি করলাম সবাই। বাসায় ফিরে আসতে আসতে রাত প্রায় সাড়ে বারোটা বেজে গেল।

কলিং বেল দিতেই  নীরা এসে দরজা খুলে দিলো। আমি সোজা রুমে ঢুকে গেলাম নীরাও পিছু পিছু আসলো, এসে বললো, 

- 'খাবেন না।' 

আমি বললাম, 

- 'খেয়ে এসেছি তুমি খেয়ে নাও'

নীরা রুম থেকে বের হয়ে গেল। আমি ওয়াশ রুমে চলে গেলাম। ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে দেখি নীরা শুয়ে আছে, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, 

- 'খেয়েছো?'

নীরা মাথা নাড়িয়ে বললো, 

- 'না।'

আমি আর কিছু বললাম না। বিছানায় শুয়ে শুয়ে দিয়া সাথে চ্যাটিং করছি, অনেক ক্ষণ চ্যাটিং এর পর দিয়াকে বললাম, চলো কাল কোথাও ঘুরতে যাই, দিয়া বললো না সম্ভব না, কাল আমার পরীক্ষা আছে ভার্সিটিতে, অন্যকোন দিন যাবে। আমি বললাম, আচ্ছা ঠিক আছে, এরপর কিছু সময় চ্যাটিং করে দিয়াকে বললাম, শুয়ে পড়ো, কাল পরীক্ষা রাত জাগতে হবে না। বলে আমিও শুয়ে পড়লাম।

সকালে ঘুম থেকে উঠতে উঠতে অনেক বেলা হয়ে গেল। নীরা চা নাস্তা করে দিলো, আমি খেয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চলে গেলাম। আর নীরাকে বললাম ফিরতে রাত হবে খেয়ে নিতে ও কিছু বললো না।

বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে, গল্প করতে করতে দুপুর হয়ে গেল। সবাই মিলে দুপুরে লাঞ্চের জন্য গুলশানের একটা রেস্টুরেন্ট এর দিকে রিক্সা নিয়ে যাচ্ছি এমন সময় দেখলাম দিয়াকে।দিয়া রিক্সা নিয়ে বনানীর দিকে যাচ্ছে কিন্তু ওর ভার্সিটিতো বসুন্ধরায়।

আমি পকেট থেকে ফোন বের করে দিয়াকে কল দিলাম। দিয়া ফোন ধরতেই আমি জিজ্ঞাসা করলাম ভার্সিটিতে গেছো, দিয়া বললো হ্যাঁ এইতো ভার্সিটির সামনে। কথাটা শোনে যেন আমি আকাশ থেকে পড়লাম। দিয়া এভাবে আমাকে মিথ্যা বলতে পারলো? কিন্তু কেন এই মিথ্যা বলা, আমি কখনো ভাবতেও পারিনি, দিয়া এমনটা করতে পারে। আমাকে এর কারণ খুঁজে বের করতেই হবে। বন্ধুদের বললাম, তোরা লাঞ্চ কর আমি একটু আসতেছি, বলেই দিয়ার পিছু নিলাম।

দিয়ার রিক্সা যেয়ে থামলো বনানীতে একটা মার্কেটের সামনে। আমি ও একটু দূরে আমার রিক্সাটাকে থামাতে বললাম। দিয়া দাঁড়িয়ে থাকা আবস্থায় একটা কালো রঙের গাড়ি এসে থামলো। গাড়ি থেকে একটা ছেলে বের হতেই দিয়া দৌড়ে তার বুকে ছুটে গেল, এমন দৃশ্য দেখবো আমি কখনো ভাবিনি। শুধু যদি বুকে ছুটে যেয়ে ক্ষ্যান্ত হতো তবুও মেনে নিতে পারতাম। কিন্তু প্রকাশ্য দিয়া সেই ছেলেটাকে কিস করলো এমন দৃশ্য দেখার পরে কোন প্রমিকের পক্ষে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব না।

চোখ দুটো যেন আমার বন্ধ হয়ে আসছিল কি হচ্ছিল এসব আমার সাথে? কোন কিছুই আমার সাথে যাচ্ছিল না, সবই যেন আমার বিপরীত, দিয়া এমটা কি করে করতে পারলো। আমার মাথায় সে সময় কোন কিছুই কাজ করছিল না। ইচ্ছে করছিল যেয়ে দিয়াকে প্রশ্ন করতে কেন এমনটা করলো আমার সাথে। কিন্তু তা করতে পারলাম না। ওর প্রতি, নারীদের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা সৃষ্টি হয়েছিল সে সময়। ওখানে না দাঁড়িয়ে আমি সোজা বন্ধুদের কাছে চলে গেলাম, রাগে পুরো শরীর পুড়ে যাচ্ছে ইচ্ছে করছে দিয়ার গলাটা চেঁপে ধরে প্রশ্ন করতে এটাই কি তোর আধুনিকতা ? কোন ভাবেই যেন নিজেকে আর আটকে রাখতে পারছিলাম না। না পারছিলাম পরিবারের মানুষ গুলোর দেয়া আঘাত নিতে।  না দিয়ার দেয়া আঘাতটা।

সে রাতে বন্ধুদের সাথে প্রচন্ড ড্রিংকস্ করে, পুরো মাতাল হয়ে বাসায় ফিরি। কলিং বেলটা কয়েক বার চাপতেই নীরা দরজা খুলে দেয়। আমি সোজা চলে যাই রুমের ভিতরে  রুমে যেয়ে জামা কাপড় চেঞ্জ না করেই বিছানায় শুয়ে পড়ি মাথাটা কেমন যেন ঘুরছিল। নীরাও আমার সাথে সাথে ঘরে ঢুকে নাক চেপে ধরে বলে আপনি মদ খেয়ে এসেছেন? নীরার কথায় ওর দিকে ঘুরে তাকিয়ে দেখলাম ওর চুল গুলো এলো মেলো হয়ে আছে, চোখ দুটো লাল মনে হয় কিছু সময় আগেই কান্না করেছে।

নেশাটা প্রচন্ড ভাবে ধরেছিলো, ওর কথার উত্তর না দিয়ে আমি ওর দিকে চেয়ে আছি, নীরা আবার বলে উঠলো কি হলো উত্তর দিচ্ছেন না কেন? আমি আপনাকেতো বলেই ছিলাম, আপনার জীবনে কোন বাঁধা হয়ে দাঁড়াবো না। তারপরেও কেন আপনি এমন করছেন, বলতে বলতে আমার সামনে আসতেই আমি ওর হাত ধরে টান দিয়ে ওকে বুকের সাথে চেঁপে ধরি।

তখন আমার মাঝে শুধু একটা জিনিসই কাজ করছিল সব মেয়েরাই বেঈমান বিশ্বাস ঘাতক, হয়তো সেটা দিয়ার দেয়া আঘাতের কারণেই কিংবা নীরাকে ঐ অবস্থায় দেখে আমি ওর মোহে পড়ে যাই। নীরা সে রাতে অনেক চেষ্টা করছিলো সেখান থেকে উঠে যাওয়া জন্য, নিজেকে আমার থেকে ছাড়িয়ে নেবে বলে।

একটা সময় ওর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়, পেরে উঠে না,  আমার শক্তির সাথে। সে রাতে নীরা নিজেকে বিসর্জিত করে আমার কাছে। আর আমি হিংস হায়নার মত জাপিয়ে পড়ি নীরার দেহের উপর। যখন আমার হুস ফিরে তখন অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে, সকালে যখন চোখ মেলে দেখলাম নীরার দেহটা আমার শরীরের উপর তখন আমি রাতের ঘটনাটা মনে করতেই নিজেকে খুব ছোট মনে করতে শুরু করলাম। যদিও নীরা আমার স্ত্রী কিন্তু তাকে আমি স্ত্রীর মর্যাদা দেইনি, আর তার সাথে আমি সংসার ও করবো না। কিন্তু রাতে যা করেছি তা খুবি অন্যায় কাজ করেছি, প্রচন্ড অনুশোচনায় ভুগতে শুরু করলাম।

আমি বিছানা ছেড়ে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম, তখনো নীরা ঘুমাচ্ছিল। নিজেকে অনেক ছোট মনে হচ্ছিল। সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরি। রুমে যেয়ে দেখি নীরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে হয়তো কান্না করছে। আমিও বারান্দায় চলে যাই, 

আমাকে দেখে নীরা চোখের পানি মুছে জিজ্ঞাসা করে, 

- 'কখন আসলেন।' 

আমি বলি, 

- 'মাত্রই আসলাম' 

নীরা বললো, 

- 'আপনি দাঁড়ান আমি চা করে নিয়ে আসি।' 

আমি নীরার হাতটা চেঁপে ধরে বললাম, 

- 'দেখো কাল রাতে যা হয়েছে তার জন্য আমি অনুতপ্ত তুমি কিছু মনে করো না।'

নীরা চুপ করে রইলো অনেক সময়, কোন কথা বললো না। তারপর বললো,

- ' কিছুই ভুল হয়নি এখানে অবশ্যই  আপনার অধিকার আছে সম্পূর্ণ আমার উপর।' 

আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। হয়তো সেদিন সে আমার ব্যবহারে অনেক কষ্ট পেয়েছিল। আমিও অনুশোচনায় ভোগতে ছিলাম। সব দিক থেকে আমি পুরো হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। তাই আর দেশে থাকতে ইচ্ছে করছিল না, হতাশা থেকে মুক্তি পাবার জন্য ছুটি শেষ হবার আগেই বিদেশে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম।

নীরার সাথে তেমন কোন কথা হতো না, নীরাও হয়তো রাগে অভিমানে আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। যে নীরা এতো কিছুর পরেও হাসি খুশি থাকার চেষ্টা করতো। সে নীরাও কেমন যেন মনমরা হয়ে গেলো, ওর হাসি কান্নাকেও আমি পাথর বানিয়ে দেই, এদিকে সেদিনের পর দিয়ার সাথেও আর তেমন যোগাযোগ করতাম না। যদিও দিয়া যোগাযোগ করার চেষ্টা করতো ফোন দিতো আমি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করতাম।

দিয়া প্রতিদিনই ফোন দিতো, কখনো আমি রিসিভ করতাম কখনো করতাম না। নিজের ভিতরটা জ্বলেপুড়ে যাচ্ছিল অনুশোচনায়। নীরার সাথে আমি অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি এটা ভেবে দিন দিন আমি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ছিলাম। নীরা প্রয়োজন ছাড়া আমার সাথে আর একটা কথাও বলতো না। 

হঠাৎ একদিন বন্ধুদের সাথে দেখা করতে যাবার সময় বাসায় ফোন রেখে চলে যাই। বন্ধুদের সাথে যখন রাতে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরি, তখন নীরা আমাকে বলে, 

- 'আপনাকে একটা মেয়ে ফোন দিয়েছিলো সম্ভবত মেয়েটা আপনাকে অনেক ভালোবাসে। কাল সে আপনাকে দেখা করতে বলেছে।'

আমি থমকে যাই কথাটা শুনে, আমি বুঝতে পারছিলাম যে কল কে দিয়েছে, আমি কিছু বলার আগে নিলায় বলতে শুরু করলো। 

- 'জীবন এভাবে চলে না। আপনি মেয়েটার সাথে দেখা করেন, মেয়েটা অনেক কান্না করেছে। মেয়েটা সত্যি সত্যিই হয়তো আপনাকে অনেক ভালোবাসে।'

নীরার কথায় প্রচন্ড রাগ উঠলো আমার, আমি রেগে গেয়ে নীরাকে বললাম,

- 'কিসের ভালোবাসা।কাকে ভালোবাসা বলে? তুমি যে আমাকে ভালোবাসো  তুমি কি সেটা যানো?' 

নীরা আমার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে বললো, 

- 'আমি আপনাকে ভালোবাসি না' 

বলেই নীরা ছুটে চলে গেল বারান্দায়।আমিও নীরার সাথে সাথে ছুটে গেলাম। নীরা কান্না করছে আমি বললাম, 

- 'এই কান্না করবে না। তুমি বলছো আমি যাবো কিন্তু কোন রকম কান্না করবা না।'

নীরা চোখের পানি মুছতে মুছতে বললো, 

- 'হ্যাঁ আপনি আগামীকালকেই যাবেন এবং ঐ মেয়ের সাথে কথা বলবেন। প্রয়োজনে যদি দুজনের কথা বলে ভাল লাগে বিয়ে করে বাসায় নিয়ে আসবেন। আমি আপনাদের পথে বাঁধা হবো না।'

তারপর আর আমাদের মাঝে এই বিষয়ে কথা হলো না। আমি দিয়াকে ম্যাসেজ দিয়ে বললাম,'কাল আমি তোমার সাথে দেখা করবো।' কোথায় কখন দেখা করবো তা তাকে জানিয়ে দিলাম। দিয়া ও বললো ঠিক আছে সময় মত আসবে। তারপর আর কোন কথা বললাম না। মনে মনে ভাবলাম ওকে সেদিনের কথা বলবো যা আমি দেখেছি। 

কিছু সময় পর নীরা রাতের খাবার খেতে ডাক দিলো। রাতের খাবার খেয়ে এসে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। নীরাও এসে পাশে শুয়ে পড়লো দুজনের মাঝে সে রাতে আর কোন কথা হলো না। সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে বের হলাম। দিয়ার সাথে দেখা করার জন্য। যেখানে দেখা করার কথা সেখানে চলে গেলাম, অপেক্ষা করতে শুরু করলাম দিয়ার আসার।

চলবে...

6 মন্তব্যসমূহ

নবীনতর পূর্বতন