নিরুদ্দেশ

 



আমার মা হঠাৎ করেই হারিয়ে গিয়েছে, আমি তখন খুব ছোট ছিলাম ।

সেদিন বৃষ্টি ছিলো। মা গিয়েছিলেন মামার বাসায়। আমি পড়ার টেবিলে বসে পড়ছিলাম।
'সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না দেখ
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো-'
মা যাবার সময় মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন,
- 'আমি কিছু সময় পরেই চলে আসছি। তুই বসে বসে কবিতাটা মুখস্থ কর ।'
আমি তাই কবিতাটা মুখস্থ করছিলাম। সকাল, দুপুর। কাজলা দিদি আমার মুখস্থ হয়ে গেল। কিন্তু মা তখনও ফিরলেন না।
বাবা সন্ধ্যায় বাসায় আসলেল। আমি কাঁদতে কাঁদতে বাবার কাছে গিয়ে মায়ের হারিয়ে যাওয়ার কথা জানালাম। বাবা আমাকে রেখে মামার কাছে গেলেন। মামার কাছে গেলে মামা জানায় মা তে আসেি মামার বাড়ি । বাবাসেখানে কোন কথা না বলে চুপচাপ বাসায় এসে শুয়ে পড়লেন।
আমি সারারাত মায়ের অপেক্ষায় জেগে রইলাম। মা ফিরলেন না।
পরদিনও মা ফিরলেন না। তার পরদিনও। তার পরদিনও। মা যেন হারিয়ে গেছেন পৃথিবীর বুক থেকে। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার, মা যেন সবার মন থেকেও হারিয়ে গেলেন।
আমার বাবা দুতিনদিন মাকে অনেক খুঁজলেন , তারপর না পেয়ে হাল ছেড়ে দিলেন। কেন যে বাবা হাল ছেড়ে দিয়েছেন বুঝলাম না। মায়ের প্রতি তার আমার বাবার মমতা কি ঐ ক'দিনেই শেষ হয়ে গিয়েছিলো, নাকি বাবার মনে অন্যকিছু ? জানতে পারিনি তখন।
ওই ঘটনার তিন মাস পর। এক সন্ধ্যায় বাবাহঠাৎ করে এক অচেনা মহিলাকে নিয়ে এসে বললেন,
- ' আমাকে বলতে লাগলেন ইনি তোমার নতুন মা। তুমি ইনাকে সালাম করো।'
আমি সে মহিলাকে সালাম না করে সোজা ঘরে গিয়ে দরজা আটকে কাঁদতে লাগলাম। বাবা অনেকক্ষণ দরজা ধাক্কা ধাক্কি করেও কোন লাভ হলো না , আমি দরজা খুললাম না। যখন খুললাম, বাবা আমাকে অনেক মারলেন। এতো মারলেন যে, শেষমেষ ওই অচেনা মহিলাটি বাবার হাত চেপে ধরে বললেন,
- 'এই কি করছেন আপনি ? মেরে ফেলবেন নাকি ছেলেটাকে?'
বাবার সাথে সেদিনের ঘটনার পরে আমি কথা বলি না।
বাড়িটা যেনে নরকের মতো হয়ে গেল এখন আমার কাছে। এখানে কাউকেই যেন চিনি না। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে এই বাড়িতে।
মামা-মামি দু'জনেই আমাকে ছেলের মত অনেক আদর করেন। মামা তার বোনের জন্য খুব দুঃখ করেন । মাঝেমাঝে আমার তো তিনি আমার সামনেই কেঁদে ফেলেন। মামীও মাঝে মাঝে কান্না করেন কাঁদেন।‌ কাঁদতে কাঁদতে মাঝে মাঝে বলেন,
- 'এতো সুন্দর পুট পুটে ছেলেটাকে একা রেখে কই যে আমার বোনটা গেলো ? কই যে চলে গেল? কত সুন্দর করে সবসময় ডাকতো মেয়েটা। আর হয়তো কেওকেই ডাকবে না।'
মামা-মামীর কান্না দেখে আমারও কান্না পায়। আমার কাঁদতে ভালো লাগে না। আমি তখন রিংকুর সাথে খেলি। রিংকু আমার মামাতো বোন। আমার সমবয়সী প্রায়।
ছোট থেকেই আমরা অনেক পিঠাপিঠি ছিলাম । মা হারিয়ে যাবার পর আমরা দুজনে আরো আনেক কাছাকাছি হলাম । আমি সারাদিন রিংকুর সাথে খেলাধুলা নিয়েই ব্যস্ত থাকি । ধানক্ষেতে এদিক ওদিক ছুটে বেড়াই। দিঘীতে নেমে গোসল করি শালুক তুলি। প্রচন্ড বৃষ্টির পর মাটির ঘ্রাণ শুঁকে ব্যাঙ ধরতে বেরোই সবাই মিলে। আমাদের সারাদিন এমন ভাবেই কাটে।
একদিন দুপুর বেলায়। আমি আর রিংকু বাড়ির পিছনে খেলতেছিলাম। আশেপাশে কেউ নেই।
খেলতে খেলতে রিংকু হঠাৎ বললো,
- 'একটা জিনিস দিবো তোকে। নিবি?'
আমি বললাম,
- 'কি জিনিস?'
- 'চোখ বন্ধ কর।'
আমি চোখ বুজলাম। রিংকু কি দেয়, তা দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। হঠাৎই, ঠোঁটে অদ্ভুত এক স্পর্শ পেলাম। আমার সর্ব ইন্দ্রিয় যেন কেঁপে উঠলো সে স্পর্শে।
আমি চোখ মেলে বললাম,
- 'রিংকু। এটা কি?'
রিংকু কিছু বললো না। চোখ নামিয়ে কেবল লাজুক মুখে মুখ টিপে হাসতে লাগলো।
পরদিন, মামা ভীষণ জোরে চড় মারলেন আমার গালে। চিৎকার করে বললেন,
- 'বেয়াদব। এই বয়সেই এসব। কাল বাড়ি ফেরার পথে তোদের দেখে লজ্জায় তো আমার মাথা কাটা গেলো। আর যেন কোনোদিন তোকে আমার বাড়ি আসতে না দেখি।'
আমি তখনি মামার বাড়ি থেকে বাসায় চলে আসলাম। রিংকুর দিকে আমি একবারো ফিরেও তাকালাম না।
তারপর কিছুদিন আমি বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিলাম। সারাদিন নিজের ঘরে থাকি। নতুন মহিলাটা আমার খাবার দিয়ে যায়, পানি দিয়ে যায়। মাঝেমাঝে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করেন,
- 'তোমার কি হয়েছে, বলোতো?'
আমি উনাকে তখন কোন কিচ্ছু বলি না । উনাকে আমার একদমই ভালো লাগেনা অসহ্য লাগে।
কিছুদিন পর বাবা আমাকে বললেন আমাকে ঢাকায় চলে যেতে হবে। ঢাকার এক ভালো স্কুলে আমার পড়ার ব্যবস্থা করেছেন।
নতুন মহিলাটি সাথে সাথে বললেন,
- 'দরকার কি? এতো ছোট একটা মানুষ ঢাকায় গিয়ে একা একা থাকবে কিভাবে ?'
বাবা বললেন,
- 'থাকতে থাকতেই শিখে যাবে। সারাজীবন কি ওকে মাথায় নিয়ে বেড়াবো নাকি আমরা? একা থাকা শিখতে হবে‌ না?'
পরদিন আমি ট্রেনে চেপে ঢাকায় রওনা দিলাম। যদিও বাড়িটা আমার নরকের মতো লাগতো, তবুও যাবার সময় খুব খারাপ লাগছিলো আমার। এ বাড়িতে আমার সব ছিলো‌। আমার মা ছিলো, বাবা ছিলো। ছুটির দিনের খুনসুটি ছিলো, একসাথে বসে গল্প করা ছিলো। বৃষ্টির দিনের খিচুড়ি ছিলো, ঈদের দিনের আনন্দ ছিলো।
এখন যদিও আমার কিচ্ছু নেই। তবু মায়ের ঘ্রাণটা ছিলো এখানেই। আজ থেকে সেটা থেকেও বঞ্চিত হলাম ।
ট্রেনে বসে আমি খুব জোরে কান্না করছিলাম । মায়ের কথা মনে পড়ছিলো চোখ থেকে যেন পানি টলটল করে পড়তে লাগলো , বাবার কথাও কুছিটা মনে পড়ছিলো। আমি ঠোঁট চেপে কান্না আটকানোর চেষ্টা করছিলাম । রিংকুর কথাও মনে কষ্ট দিচ্ছিলো। আমি জোর করে রিংকুর মুখটা অন্যদিকে সরিয়ে দিলাম মন থেকে।
এরপর আমি চলে আসলাম ঢাকা। টানা দশ বছর থেকে গেলাম। এরমধ্যে ইচ্ছে করেই একবারও বাড়ি আসিনি। ছুটির দিনগুলোতে আমি ঢাকাতেই থাকতাম, নইলে কোনো বন্ধুর বাসায় বেড়াতে চলে যেতাম। বাড়ি যেতে ইচ্ছে করতো না আমার একবারও, ইচ্ছে করলেও আমি সে ইচ্ছেটাকে পাত্তা দিতাম না একদমি।
'
'
বাড়ি ফিরলাম দশ বছর পর।
এই দশবছরে প্রায় সবি বদলে গেছে। আমার নিজের এলাকাকেই যেন আমি চিনতে হারিয়ে যাবে এমন অবস্থা। শুধু একটা জায়গা একটুও বদলায় না সেটা হলো রিংকুদের বাড়ির পিছে সুপড়ির বাগানটা। শেষ বার আমি যেমন‌ দেখে গিয়েছিলাম ছোটবেলায়, ঠিক যেন তেমনই আছে বাগানটা।
আমি দাঁড়িয়ে থাকলাম সেখানে। ততক্ষণে রাত হয়ে গেছে । জায়গাটার চারদিকে অন্ধকারে ছেয়ে গেল, এখানে ওখানে দু'চারটে জোনাকি আলো জ্বালিয়ে উড়া উরি করছিল ।
আমি অপেক্ষা করি রিংকুর।
রিংকু ফেরে দশটা নাগাদ। আমার ডাক শুনে সে ভীষণ চমকে যায়। ভীত হরিণীর মতো সে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।
আমি আবার বলি,
- 'আমিরে রিংকু। চিনতে পারিস নি?'
রিংকু এবার ঠিকি আমাকে চিনতে পারে । আমাকে দপখেই অবাক হয়, ভয়ও পায় মনে মনে পায়। ভয় পাওয়া গলায় আমাকে বলে উঠলো ,
- ' কিরে তুই ? কখন আসলি? এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?'
আমি হাসিমুখে বলি,
- 'ভয় পাসনা তুই আমি জানি যে তোর বিয়ে। তোর নামে কেন বদনাম করে বিয়ে ভাঙার কোন ইচ্ছাই আমার নাই। শুধু কয়েকটা বিষয় বা কথা জানাতে এসেছিলাম তোকে।'
রিংকুর ভয় তবুও কাটে না। বলে,
- 'এখানে কেন? বাসায় এসে বল।'
- 'না, বাসায় না। এখানেই বলতে হবে।'
- 'তাহলে তাড়াতাড়ি বল। যেতে হবে আমায়।'
- 'আচ্ছা, বলছি তোকে । তুই তো ভালো মতোই জানিস আমার মা হারিয়ে গেছে। কেমনে হারিয়ে গেছে সেটা কি তুই , জানিস?'
- 'না, জানি না।'
- 'তবে বলি তোকে শোন। এই দশ বছর অনেক খোঁজ-খবর নিয়েছি আমি এসব বিষয়ে , অনেক কিছু জানতেও পেরেছি আমি । সবকিছুই এখন পরিষ্কার । আজ এখানে আমি এসেছি সবকিছুর হিসেব চুকাতে।'
রিংকু ভয় পায়,
- 'মানে?'
- 'বলছি । মা হারিয়ে যায় কবে, জানিস তো?'
- 'হু।'
- 'আমি তখন ভেবেছিলাম মা মারা যাবার পরই বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কিন্তু ধারণা ভুল ছিল । বাবা আর নতুন সেই মহিলার বিয়ের সার্টিফিকেট আমি দেখেছি। উনাদের বিয়ে হয়েছিলো আমার মা হারিয়ে যাওয়ার এক মাস আগে‌। বাবা লুকিয়ে বিয়ে করেছিলেন। নতুন মায়ের কিছু করবার ছিলো না। গরীব ঘরে মানুষ তিনি, চাচাদের কাছে মানুষ হয়েছেন। উনাদের গ্রামে গিয়ে উনাকে বাবার পছন্দ হয়, বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আপদ বিদেয় করতে পেরেছে ভেবে উনার চাচারাও তড়িঘড়ি করে নতুন মায়ের সাথে বাবার বিয়ে দিয়ে দেয় কোনো খোঁজখবর না নিয়েই। বাবা এই বিয়ের কথা মায়ের কাছে গোপন রাখে।
কিন্তু মা বিষয়টা যে ভাবেই হোক টের পেয়ে যায়‌। মা মনে মনে ঠিক করেন, আর আমার বাবাকে ডিভোর্স দিবেন,এমনকি মামলা করবেন বাবার নামে। বাবা ভয় পেয়ে যান কি করবেন ভাবতে লাগে । এমনিতে জেলে যাবার ভয় তার উপর তার চাকরি হারাবার বিষয় নিশ্চিত। তিনি ঠিক করেন, মায়ের মুখ বন্ধ করা লাগবে, যেকোনভাবেই হোক।
যেদিন আমার মা আমাকে রেখে হারিয়ে যায়, সেদিন বাবা ছুটি নিয়েছিলেন অফিস থেকে আমি বিষয়টি পরে জানতে পারি। অনেকেই তাকে নাকি ওইদিন এলাকাতে গুরা ফের দেখেছে। মা ঘর থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই বাবা তার পিছু নেয়। পিছু নিয়ে এই সুপারির বাগান পর্যন্ত আসেন।'
রিংকু শিউরে ওঠে। ফিসফিস করে বলে,
- 'ফুফাই তাহলে খুন করেছেন ফুফুমণিকে?'
আমি বলি,
- 'না।'
- 'না?'
- 'হু।
আমারবাবাকে ডিভোর্স দিয়ে মামলা চালানো তাচাড়া আমাকে নিয়ে আলাদা থাকা, এসব কিছুর জন্যই মায়ের অনেক টাকার দরকার ছিলো চিন্তা করতে এসব টাকার বিষয়ে । তুই হয়তো জানিস না কিছু নানা মারা যাবার সময় দক্ষিণ পাড়ার ধানী জমিটা মাকে দিতে বলেছিলেন। মামাই ঐ জমিটা ভোগদখল করতেন। পরে, টাকার দরকার হওয়ায় মা মামাকে বলেন জমিটা তাকে দিয়ে দিতে। মামা রাজি হলেন না। ঐ জমি থেকে অনেক টাকার ধান আসে মামার। মামা এর বদলে কিছু টাকা দিতে চাইলেন মাকে। মা ঐ টাকা নিতেই সেদিন এই বাগানে আসেন।
কিন্তু এখানে এসে টাকার পরিমান কম দেখে মা রেগে যান। মামা যে টাকা মাকে দিতে চেয়েছিলেন এখানে , তার চাইতেও অনেক কম টাকা নিয়ে এসেছিলেন। জমিটার দাম ছিলো এর থেকে আরো অনেক অনেক বেশি। এই নিয়ে মা আর মামার ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়া চলতে চলতেই মামা এখানে পড়ে থাকা একটা কাঠ দিয়ে মায়ের মাথায় জোরে বাড়ি মারে। মা তখনই মারা যায়।'
রিংকু ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে,
- 'তুই মিথ্যা বলছিস। আব্বা এমন কাজ করতেই পারেন না।'
- 'নারে আমি মিথ্যা কেন বলতপ যাবে বল। তিনি করেছেন, এবং তিনি নিজ মুখেই এটা স্বীকারও করেছেন। আর তাছাড়া, এ ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলো। কে জানিস?'
- 'ফুপা?'
- 'হ্যাঁ।
বাবা মার পিছু পিছু এখানে এসে পুরো বিষয়টি নিজপর চোখে দেখলেন । কিন্তু কাউকে কিছু না বলেই তিনি চুপ চাপ থেকে বাড়ি ফিরে যান। তার আর কি চিন্তা ? আপদ তো বিদেয় হয়েছেই। মামাও আমার মায়ের লাশটা এ বাগানে পুঁতে ফেলেন।'
আমি নির্লিপ্তভাবে কথাগুলো বলে গেলাম। গলাটা একটুও কাঁপলো না। আমি তো এখন আর দশ বছর আগের সেই ছোট ছেলেটা নই, এখন রক্ত টগবগে তরুণ, খুনের নেশায় রক্ত কিলবিল করতে থাকে...
রিংকু হঠাৎ কান্না থামিয়ে ভয় ভয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
- 'তুই এ গ্রামে কেন এসেছিস?'
- 'বলেছি না, হিসেব চুকাতে।'
- 'কি হিসাব?'
- 'প্রথমে বাবার বিষয় টা । তারপর নতুন একটা মহিলাকে বিয়ে করবার সময় বাবার প্রচুর টাকার দরকার ছিলো। সংসারের হিসেব থেকেও সেই টাকা নিতে পারছিলেন না বাবা , মা টের পেয়ে যাবেন সেই ভয়ে । শেষেউপায় না পেয়ে ঘুষ খেয়ে তার অফিসের একটা প্রোজেক্ট পাস করে দেন। এই প্রোজেক্টের কথা মনে হয় তুই শুনেছিস। গত সপ্তাহে এক জায়গায় মাটি ডেবে গিয়ে অনেক মানুষ মারা গেলো না, এটা ছিলো সেখানে আবাসন তৈরির প্রোজেক্ট। এটা নিয়ে এখন বেশ তুলকালাম হচ্ছে। আমি বাবার বিরুদ্ধে সব সাক্ষ্য-প্রমাণ তার অফিসে দাখিল করে এসেছি। এখন তদন্ত হচ্ছে বাবাকে নিয়ে। তার চাকরিটা যাবে শিগগির। মামলা হবে, জেলও হয়ে যেতে পারে। এই বৃদ্ধ বয়সে এতো ধকল তিনি কিভাবে সামলান, তা দেখা যাবে।'
রিংকু চোখের জল মুছে বললো,
- 'আর আমার বাবা?'
আমি কিছু বলি না।
- 'বল। আমর বাবার সাথে কি করেছিস।'
আমি শুধু বলি,
- 'দক্ষিণ পাড়ার ধানী জমিটা আছে না? ওটার নিচে কাল খুঁজে দেখিস।'
রিংকু চিৎকার করে ওঠে। আমি দ্রুত সেখান থেকে চলে আসি, রিংকুর দিকে ফিরেও তাকাই‌ না। দশবছর আগে যেভাবে এসেছিলাম।
এতো প্ল্যান করেও‌ শেষমেষ রিংকুকে কেন ঢ়ে সব বলে দিলাম বুঝতেই পারলাম না ?
রিংকুকে একটা কথা বলতে গিয়ে বলা হয়নি‌। দুপুর বেলায় আমরা যে ঢিবিটার উপর বসে খেলছিলাম, সেটা কি ছিলো তখন তো বিষয়টি বুঝতে পারিনি। ওটা ছিলো মায়ের কবর আমার। মাকে খুন করে ঐখানেই তাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন মামা। আর মা আমার কাছ থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন, চিরদিনের জন্য।
.
(সমাপ্ত)
-----------------
--------------------------------
গল্পটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে পারেন। আর কমেন্টে আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানাতে ভুলবেন না।🥰
#Bangla short story,#Bengali storytelling,#Bangla literature,#Bengali fiction,#Bangla narrative,#Bengali tales
#Bangla storytelling tradition,#Bengali literature classics,#Bangla literary works,#Bengali author spotlight,#Bangla literary scene,#Bengali story genres,#Bangla narrative styles,#Bengali storytelling techniques,#Bangla modern fiction,#Bengali historical stories,#Bangla fantasy tales,#Bengali narrative trends,#Bangla literary exploration,#Bengali storytelling heritage,#sahityakuthir #ছোটগল্প ,#বাংলা গল্প ,#বাঙালি উপন্যাস #বাংলা ছন্দকাব্য#সুস্বাদু বাংলা গল্প, #বাংলা ভূতের গল্প, #বাঙালি প্রেমকাহিনী,#বাংলা মিষ্টি গল্প,#সত্যিকারের বাংলা কাহিনী,#বাংলা রহস্যগল্প,#বাংলা ঐতিহ্যবাহী গল্প,#বাংলা ফ্যান্টাসি গল্প,#বাংলা ভাষার উপন্যাস,#বাংলা গল্পের রচয়িতা, #সেরা বাংলা গল্প, বাংলা কবিতা, #বাংলা প্রবন্ধ,#বাংলা লেখিকা #সাহিত্য কুঠির

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন