অপেক্ষার_পহর_সু_মধুর_হয় ..!

 


অষ্টম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলো আমাদের । বন্ধুদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছি তখন আমার বন্ধুরা আমাকে বললো তোকে একটি মেয়েকে  পটাইতে  হবে এবং তুই চোখ বন্ধ করে তোর ফেসবুক এ যেই আইডি র্টাচ করবি সবার প্রথমে যে আসবে তাকেই পটাতে হবে। পটাতে পারলে দুই হাজার টাকা পাবি এবং সেই টাকা দিয়ে পার্টি করবো। ছোট থেকে বাজি হারি নাই তো তখন আমি গ্রহণ করলাম। 

কিন্তু আজকে না। বন্ধুরা ওকে ঠিক আছে। জানুয়ারির চার তারিখ... 

ফারহান: আসসালামুআলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ..! 

মায়াবী : ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ.। কে আপনি.? 

ফারহান: আমি ফারহান। 

মায়াবী: ওহ আচ্ছা.! 

ফারহান :জী.। আপনার নামটি জানতে পারি.? 

মায়াবী: জী..! আমার নাম ( গোপন রাখা হলো) 

ফারহান :ওহ আচ্ছা..। 

মায়াবী: জী.! কোন ক্লাসে পড়েন.? 

ফারহান: ক্লাস নাইন আপনি.? 

মায়াবী:সেম ক্লাস..। 

ফারহান; ও আচ্ছা.। 

মায়াবী:জী.! আপনার বাসা কোথায়.? 

ফারহান:ঢাকা আপনার.? 

মায়াবী:কক্সবাজার..। 

ফারহান: ও আচ্ছা.। আমার পছন্দের জায়গা ..! 

মায়াবী : ও আচ্ছা.। 

ফারহান: আচ্ছা একটি পশ্ন করি.?  

মায়াবী: জী অবশ্যই.! 

ফারহান: আপনি কি প্রেম করেন.? 

মায়াবী: না আপনি.? 

ফারহান: না.। 

মায়াবী: আচ্ছা.। আপনি এখন কি করেন.? ৎ

ফারহান: এই তো আম্মুকে সাহায্য করতেছি রান্নাই.। 

মায়াবী: ও আচ্ছা.? কী রান্না করতিছে আপনার মা.? 

ফারহান: পিঠা বানাচ্ছে। 

মায়াবী : ও আচ্ছা আপনি ও পারেন.? 

ফারহান: জী মোটামুটি পারি.। 

মায়াবী: বাবা আর কি কি পারেন.? 

ফারহান: জী সবকিছু পারি.! 

মায়াবী: ও বাবা তাই নাকি.। আমি নিজেই তো পারি না. 

ফারহান; জী.। আচ্ছা ব্যাপার না.! 

মায়াবী: জী.!

ফারহান:কিন্তু আমার একটি বেস্ট ফ্রেন্ড আছে.! 

মায়াবী: ও আচ্ছা.! 

ফারহান: জী.! আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড আছে.? 

মায়াবী: জী কিন্তু মেয়ে..! 

ফারহান: ও আচ্ছা.! 

মায়াবী: জী। আমরা তো ফ্রেন্ড তুমি বা তুই বলি.? 

ফারহান: আচ্ছা তুমি বল.! 

মায়াবী:ওকে

ফারহান: হুম..! 

কিছু দিন পরে 

ফারহান: তোমাকে একটি কথা বলার ছিল..! 

মায়াবী: হ্যাঁ বলো.! 

ফারহান: আই লাভ ইউ। তোমাকে ভালোবেসে ফেলছি.! 

মায়াবী: আমার সাথে মজা কর.? 

ফারহান: না.! সত্যি.! 

মায়াবী ও আচ্ছা.! 

ফারহান: কিছু বলো.? 

মায়াবী: কালকে.! 

ফারহান: ওকে 

পরের দিন... 

ফারহান: আসসালামুআলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ..! 

মায়াবী:ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ.।

ফারহান: এখন বলো.? 

মায়াবী: আসলে তোমাকে আমিও ভালোবাসি.! 

ফারহান: কিছু সত্যি কথা বলি.! 

মায়াবী: হুম বলো.! 

ফারহান: তোমাকে শুধু আমার পটানোর কথা ছিল কিন্তু তোমার মায়ায় পরে গেছি.! 

মায়াবী: আচ্ছা সমস্যা নাই.! 

ফারহান: ওকে..! 

মায়াবী: হুম

ফারহান: আমার কিছু কথা আছে.! 

মায়াবী: বলো.! 

ফারহান: তুমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বা। অন্যান্য ছেলেদের সাথে কথা বলবা না। আর পর্দা করবা.! 

মায়াবী: হুম চেষ্টা করবো.! 

ফারহান: ওকে.! আমাকে কিছু বলবা.? 

মায়াবী:না পরে বলবোনি.! 

ফারহান; ওকে

কিছু দিন পরে

ফারহান: তোমার আইডি তে রিজবী নামের ছেলে টা কে.? 

মায়াবী: বড় ভাইয়া.! 

ফারহান: ও আচ্ছা.! বড় ভাইয়া তাহলে আবার প্রোপজ করছে কেন.? 

মায়াবী: আমাকে বলে ভালোবাসে.! 

ফারহান: ও আচ্ছা.। আর কথা বলবা না.! 

মায়াবী:ওকে.! 

রিজবী এবং মায়াবীর কিছু কথা 

রিজবী: দেখো ও যদি তোমাকে ভালবাসত তাহলে সারা দিন ওর বেস্ট ফ্রেন্ড নিয়ে স্টোরি দিত না.! 

মায়াবী:না ও আমাকেই ভালোবাসে আমি জানি.! 

রিজবী:আমার কথা ভেবে দেখিও.!! 

মায়াবী: হুম.! 

ফারহান:তোমাকে না বলছি রিজবী ছেলেটার সাথে কথা বলবা না.! 

মায়াবী: আমি কার সাথে কথা বলবো না বলবো তোমাকে বলতে হবে.? 

ফারহান: এমন কেন করতেছ.? 

মায়াবী: আমি জানি তুমি আমাকে না তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড কে ভালোবাস.! 

সবসময় ওনাকে নিয়ে পরে থাক.! 

ফারহান: আমি তো শুধু ওরে নিয়ে স্টোরি দেই। আর কিছু না.! 

মায়াবী: থাক আর বলতে হবে না.! 

ফারহান:🙂😭

মায়াবী বায়.! আমাকে ম্যাসেজ বা কল দিবা না। 

ফারহান: শুনো ( আপনার দেওয়া মেসেজ গ্রহণ করা হবেনা)

পাঁচ বছর পরে... ..... . 

ফারহান:এই যে মায়াবী শুনছেন. ? 

মায়াবী:না. তো .. শুনছি না.। কে আপনি. ? চিনিনা তো আপনাকে.। ... 

ফারহান:সত্য... .!  আমাকে চিনতাছো না. ? 

মায়াবী:হুমম.। কে আপনি. ? 

ফারহান:এত অভিমান বুঝি এখোনো আমার উপর..?

মায়াবী:না তো.।  কিসের অভিমান. ?  কার উপর অভিমান করবো. ? আমি কোনো অভিমান করিনি.। 

ফারহান:সত্যি.! 

মায়াবী:হুমম.। 

 ফারহান:মনে হয়না আমার.। 

মায়াবী:আপনার মনে হওয়ার উপর কি আসে যায়.?

ফারহান;আমি তোমার কেউ না.?

মায়াবী:জানি না.। 

ফারহান:এরকম কঠোর কথা গুলো আমার ভালো লাগছে না মায়াবী..!একটু সুন্দর করে কথা বলো..! 

ফারহান:কি হলো কথা বলবে না আমার সাথে....?

মায়াবী: কি বলবো....?

ফারহান: কিছু বলার নেই..? আমার সাথে এখন কথা বলতেও তোমার ইচ্ছে করছে না..? এত খারাপ আমি..?

মায়াবী:আমি কি বলেছি আপনি খারাপ..? 

ফারহান:সব কিছু  মুখে বলতে হয়না মায়াবী.!কিছু কথা বুঝে নিতে হয়..! 

ফারহান:আপনি কি আদৌও বুঝেন আমাকে..?

ফারহান:সম্পূর্ণ বুঝতে না পারলেও একটু হলেও তো বুঝি।

মায়াবী: আপনি বুঝেন না আমাকে। 

ফারহান: তাই?'

মায়াবী:  হুমম। কখনোই বুঝতে পারেন না আমাকে। কেন আধাঁর?  

ফারহান:সত্যি কি আমি তোমাকে বুঝতে পারি না? 

মায়াবী.? 

মায়াবী: হুম। 

ফারহান:পিছনে তাকাও তো।

মায়াবী:কেন?

ফারহান:তাকাও না আগে। পরেই তো দেখতে পাবে।

মায়াবী:কেন? পিছনে কি? 

ফারহান:আমি তোমাকে তাকাতে বলেছি না..?

মায়াবী:আমি ফারহান এর কথা অনুযায়ী পিছনে তাকালাম..। পিছনে তাকিয়ে একধারে তাকিয়ে রইলাম। নিজের চোখ দুটো কেও যেন বিশ্বাস করতে পারছি না..। এটা কি সত্যি. !  আমার এমন ভাবে তাকিয়ে থাকার কারনে ফারহান সামনে এগিয়ে আসলো..। 

ফারহান:কি এমন ভাবে তাকিয়ে যে? মনে তো হচ্ছে আমাকে চোখ দিয়েই গিলে খাচ্ছ।..। 

 মায়াবী:( এখনও আমি একধারে তাকিয়ে আছি।) 

ফারহান:এই যে মায়াবী? কি হলো আপনার..? 

মায়াবী:এটা কি সত্যি..! আমি কি সত্যি সত্যি তোমাকে আমার সামনে দেখছি..? ফারহান আমার কথা শুনে আমার হাতে চিমটি কাটলো.। আউচচচ..। এভাবে কেউ চিমটি দেয়।.! 

ফারহান:এখন আপনার বিশ্বাস হলো তো আমি যে আপনার সামনে.? 

মায়াবী:হুম..। 

মায়াবী আর কিছু না বলে ফারহানকে জড়িয়ে ধরলাম..। আচমকা এমন হওয়াতে ফারহান কিছুটা ভয় পেল.।ফারহান ও কিছুনা বলে মুচকি হেসে মায়াবী কেও তার বাহুদ্বরে তার মধ্য খানে আবদ্ধ করলো..।কিছুক্ষন পর ফারহানর তার বুকের মধ্যে ভিজা কিছু অনুভব করলো..।ফারহান বুঝে দুষ্টুমি স্বরে মায়াবীকে বলল,,,.! 

ফারহান:এই যে আমার  মহারানী. !  আপনার অভিমানের সাগরে তো আমাকে ডুবিয়ে ফেলছেন একদম..। 

মায়াবী:................. 

ফারহান:অভিমানের সাগরের পানি তো দেখছি বেড়েই চলেছে। একটু তো কমান.। 

মায়াবী: হেচকি তুলতে তুলতে বলল,,,! আপনি খুব খারাপ ফারহান..। খুব খারাপ..! 

ফারহান:আবার কি করলাম.? ভালো করতে এসে খারাপ হয়ে গেলাম.। 

মায়াবী: বুক থেকে মুখ তুলে ফারহান এর বুকে এক ঘুষি মেরে বলল..। হুমম..। আপনি খারাপ..! 

ফারহান:আরে আরে লাগে তো..। অভিমান ভাঙাতে এসে মহারানীর হাতে মার খাওয়া লাগছে..। 

মায়াবী: আরেকটা ঘুষি মেরে বললাম..আরও মারবো..। আপনার সমস্যা..? 

ফারহান:না না কোনো সমস্যা নেই..। মেরেই  ফেলো আমাকে..। 

মায়াবী:হুমম..। আমি জ্বালাবো, আমিই ভালোবাসবো..।

ফারহান:জানি তো..। তো মায়াবী..!  আপনার জন্য তো শাস্তি পাওনা রয়েছে..।

মায়াবী:শাস্তি..!  কিসের জন্য...? 

ফারহান:এই যে আপনার অভিমান করা কঠোর কথা গুলো যে আমার কষ্ট লেগেছে..। 

মায়াবী:হুমম..। আরও বলবো..। 

ফারহান: তা আমি কি আমার মায়াবীর অভিমান ভাঙাতে পেরেছি..? 

মায়াবী:..................

ফারহান:এখনও বুঝি অভিমান আছে আমার উপর..?

মায়াবী:আপনি কি বুঝেন না..?

ফারহান: জানি দেখেই তো আসলাম আপনার অভিমান ভাঙাতে..। 

মায়াবী: জানেন ফারহান..!  কতদিন অপেক্ষার পর আপনাকে আমার সামনে দেখতে পারলাম..। আপনাকে দেখার সাথে সাথেই যে আমার অভিমান কমে গিয়েছে..।

ফারহান: দেখলেন তো অপেক্ষার ফল মিষ্টি হয়। '

মায়াবী: হুমম। আজই বুঝি আমাদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো..! 

ফারহান: জী ..!একটা চুম্বন দেও তাহলে..। 

মায়াবী: যা দুষ্টু পাঠক-পাঠাকারা দেখতিছে

 

(ভুল-ক্রুটি ক্ষমা মার্জনীয়। সবাই বেশি বেশি রেন্সপন্স করো প্লিজ প্রথম লেখলাম )

1 মন্তব্যসমূহ

নবীনতর পূর্বতন