---সুবাসিনী

 



বিয়ের আসর থেকে মিনতি পালিয়েছে।চারিদিকে ছি ছি পড়ে গেল মুহুর্তেই। না সে পিছনের দরজা দিয়ে পালায় নি।সবার সামনে দিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেছে লাল শাড়ি পরে। খালি পায়ে রাস্তায় যখন পায়ে ইটের খোঁচা লাগলো তখনো থামেনি।থামলো হাসপাতালের ১০৩ নাম্বার কেবিনের সামনে।সাদা ফ্লোরে তার পায়ের ছাপ পড়েছে।যেন গৃহ প্রবেশ করলো মাত্র।রাঙা হাতে অনিমেষের কপাল ছুঁইয়ে দিতেই তাকালো অনিমেষ। পারেনি মিনতি বেঈমান হতে, পারেনি শেষ মুহুর্তে অন্য কারোর হাতের সিঁদুর পরতে।তাকে দেখে দেখে অনিমেষ হচকচিয়ে গেল। ব্লা/ড ক্যা*ন্সা*র*টা লাস্ট স্টেজে এসে ধরা পড়ায় আর কি বা করার ছিল।কিন্তু তাই বলে এই প্রতিমার বিসর্জন তো দেওয়া যায় না।মিথ্যে না বলে কেবল নিরুদ্দেশ হয়েছিল সে।অথচ মিনতি?ঠিক খুঁজে নিলো তাকে।অনিমেষ পরম স্নেহে সিঁথিপাটিতে হাত বুলিয়ে বলল,

"তোমায় আর নিয়ে করা হলো না আমার বুড়ী কোথাকার। তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখী হতে পারো না?"

মিনতি কোনো জবাব দেয় না।ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে,

"ও আর তিনটা দিন বাঁচবে তো?"

পরিশিষ্ট: অনিমেষ তিন দিন কেন,তিন মিনিটও বাঁচেনি।মিনতি শ্বাস থেমে যাওয়ার আগে কেবল তার কানে ফিসফিস করে বলেছিল

"তুমি যাও আমি আসছি।যে জীবনে তুমি নেই, তো আমার আর কি কাজ এ জীবন রেখে ?আমরা বরং পরকালে এক সাথে কাঞ্চনজঙ্ঘায় সূর্য দেখবো।

অনুগল্প: অনিমেষের মিনতি......



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন