সিগারেটের স্মেল



 বিয়ের আগে ইফতির সাথে কথা ছিলো আস্তে আস্তে সিগারেট খাওয়া বন্ধ করবে ।যখনি ব্রেকআপের ভয় দেখাতাম তখনি বলতো,‘তুমি যদি আমাকে ছেড়ে ভাকে থাকতে পারো তো থাকো।জোর করে তো আর কাউকে বেঁধে রাখে ভালোবাসা পাওয়া যায় না।’


এসব বলেই দেবদাসের মতো এক্সপ্রেশন দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো।আর আমি বেচারা বলে পুরো টপিকটাই বাদ দিয়ে দিতাম।


বিয়ের পরে বললাম,

-- 'এখন থেকে অন্তত সিগারেট খাওয়া ছাড়ো নয়তো দেখবে তোমার সিগারেট খাওয়া দেখতে দেখতে আমিও তোমার মতে সিগারেট খোর হয়ে যাবো ।'


ইফতি একটা হাসি দিয়ে বললো,

-- 'ব্যাপারটা কিন্তু অনেক রোমান্টিক।ভাবো তুমি আমি দুজন একসাথে স্মোক করতেছি।মুভিতে দেখো না হিরোইন গুলো কি সুন্দর হিরোদের মতো স্মোক করে।তুমি ট্রাই করবে? দাঁড়াও একটা ধরাই তাহলে।'


ইফতি তো জানে আমি সিগারেট কখনও ছুঁয়েও দেখবো না।এবারের বুদ্ধিটাও কাজে লাগলো না।কিন্তু এর সিগারেট খাওয়া তো বন্ধ করতেই হবে যেভাবে হোক।


ব্যাগ পত্র গুছিয়ে বাপের বাড়ি রওনা হলাম।


ইফতি ব্যাগ দেখে বললো,

-- 'কোথায় যাচ্ছো এতো বড় ব্যাগ নিয়ে!'


প্রচন্ড রাগি স্বরে বললাম,

-- 'বাপের বাড়ি যাচ্ছি।যতোদিন পর্যন্ত সিগারেট খাওয়া না ছাড়বে ততোদিন পর্যন্ত এ বাড়িতে ফিরবো না।এবার চয়েজ ইজ ইউরস্ কি করবা ভাবো।'


ইফতি ল্যাপটপে মুখ গুঁজে বললো,

-- 'আচ্ছা যাও আমি অফিস থেকে তাহলে রাতে ও বাড়িতেই ফিরবো।আর প্রতিদিন তোমাকে দেখে আসবো।'


আমি রেগে বললাম,

-- 'তুমি প্রতিদিন শ্বশুরবাড়ি যাবা? লোকে কি বলবে!! আর সে সাথে আমি দকয়েক দিন পর পর দিন ও বাড়ি পরে থাকবো! লোকে কি বলবে!'


ইফতি হাসতে হাসতে বললো,

-- 'চয়েজ ইজ ইউরস্ ভেবে দেখো কি করবে।তুমি যদি আমাকে ছেড়ে বাবার বাড়ি গিয়ে থাকতে পারো তাহলে আমার কি করার থাকে! তাও তো আমি প্রতিদিন গিয়ে তোমাকে দেখে আসবো বললাম।আমি তো আর তোমার মতো এতো পাষান না।'


ব্যাগ রেখে সোফায় বসে আমি গালে হাত দিয়ে ভাবতে লাগলাম,এই ছেলেটা এতোটা ঠ্যাডা- কেনো ! কোনো কিছুতেই একে ঠিক করতে  পারছি না ওরে ।


----

-----------


কয়েক মাস পর ডাক্তার ইফতিকে বললো,

-- 'আপনি কিন্তু বাবা হতে চলেছেন।বউয়ের খেয়াল রাখবেন কিন্তু এখন থেকেই।'


ইফতি খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলো।আমি ইফতির সব খুশিতে জল ঢেলে দিয়ে বললাম,


-- 'এতো খুশি হওয়ার কিছুই নাই।বাচ্চা বড় হয়ে দেখবে তার বাপ গরু ছাগলদের ঘাস খাওয়ার মতো দিনে প্যাকেটের পর প্যাকেট সিগারেট খায়।তারপর আমাদের বাচ্চাও একদিন সিগারেট খোর হয়ে যাবে।'


ইফতি অনেক চিন্তা ভাবনা করে বললো,

-- 'মেয়ে হলে তো সিগারেট খাবে না।মেয়ে হলে তো তোমার মতোই মিষ্টি আর ইনোসেন্ট হবে।তাহলে খাওয়ার কোনো চান্স নেই।'


আমি অসহায় দৃষ্টিতে ইফতির দিকে তাকিয়ে রইলাম।পেটে হাত বুলিয়ে বেবিকে বললাম,


-- 'পৃথিবীতে বোধহয় এই একজন ঘ্যারতেরাই ছিলো যা আমার কপালে জুটেছে।'


-----

------------

প্রেগন্যান্সির সময় মেয়েদের বমি বমি ভাব,খাবারে অরুচি সাথে খাবার বিভিন্ন জিনিস থেকে অদ্ভুত অদ্ভুত স্মেল আসে।আমারও তেমনটাই হলো।ইদানিং আমার সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে।আমি ইফতির শার্টের পকেটে অনেক খুঁজেও সিগারেট পেলাম না।


সন্ধ্যেবেলা ইফতিকে বললাম,

-- 'সিগারেট কোথায়? একটা সিগারেট দাও তো।'


ইফতি অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

-- 'সিগারেট দিয়ে কি হবে!'


আমি বললাম,

-- 'আমার সিগারেটের স্মেলটা ভীষন ভালো লাগে।তোমার শার্ট থেকে কি সুন্দর সিগারেটের স্মেল আসতেছিলো।একটাও খুঁজে পেলাম না।এই তুমি বাইরে থেকে সিগারেট খেয়ে এসেছো? কি সুন্দর স্মেল আসছে তোমার থেকে।'


আমার কথা শুনে ইফতির চোখ গুলো ছানাবড়া হয়ে গেলো।তারাতরি ফোন হাতে নিয়ে ডাক্তারকে কল করে বলতে শুরু করলো,


-- 'আপনি তো তখন আমাকে বললেন বউয়ের ভালো ভাবে খেয়াল রাখতে কিন্তু এটা তো বলেননি আমাকে যে প্রেগ্ন্যাসির সময় মেয়েদের সিগারেট খেতে ইচ্ছে করে ....?  


আমি অবাক হয়ে বললাম,

-- 'কি করছোটা কি তুমি! কি সব বলছো ডাক্তারকে!'


ইফতি ফোন রেখে বললো,

-- 'এবার বোধহয় ফাইনালি আমাকে সিগারেট খাওয়া বন্ধ করতে হবে।'


ইফতির কথা শুনে আমি আকাশ থেকে পরলাম।ভুতের মুখে রামনাম!!


.


কিছুদিন যাবত খেয়াল করছি ইফতি সিগারেট খাচ্ছে না।ওর সাথেও আর আগের মতো সিগারেটের স্মেল আসছে না।ইফতিকে বললাম,


-- 'ব্যাপার কি! আজকাল সিগারেট খাচ্ছো না? আমার ভীষন সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে।দাও না একটা সিগারেট।'


ইফতি চুলায় রান্না বসিয়ে বললো,

-- 'ডাক্তার আমাকে বলে দিয়েছে সব সময় তোমার খেয়াল রাখতে আর প্রেগ্ন্যাসির সময় তুমি সিগারেট খাতে চাচ্ছ ! মাথা খারাপ নাকি তোমার! বেবির সমস্যা হবে।ডাক্তার বলেছে সিগারেটের গন্ধ ও যেনো তোমার নাকে না যায়।আমি টোটালি সিগারেট খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি তোমার জন্য। না মানে আই মিন আমাদের বেবির জন্য।'


আমি অবাক হয়ে ইফতির দিকে তাকিয়ে বললাম,

-- 'আরে বাহ যেটা এতো বছরে আমি করতে পারলাম সেটা আমাদের বেবি না আসতেই করে ফেললো।আমার কাছে তো জব্দ হলে না এবার বাচ্চার কাছে আচ্ছামত জব্দ হয়েছো।'


এই জন্যই বোধহয় হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন,

– “ পৃথিবীতে একটাও হয়তো খারাপ বাবা নেই 


#ছোটগল্প

--------

গল্পটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে পারেন। আর কমেন্টে আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানাতে ভুলবেন না।🥰

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন