বৃষ্টির বিয়ে
মেয়েটি কিছু না বুলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।
হয়তো অনেক কিছু বলতে চাচ্ছে,কিন্তু তার মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না।
এই মুহুর্তে কি বলা উচিত।সে কিছু ভেবে পাচ্ছে না।আজ যে তার কথার কোনো দাম নেই।সে এগুলো ভাবছে আর চোখ দিয়ে পানি ঝরছে।সে নিঃশব্দে কেঁদে যাচ্ছে। আমি একটু এগিয়ে গিয়ে তার হাতটি শক্ত করে ধরি।সে চমকে উঠলো।আমি বললাম কি হয়েছে তোমার?
সে বললো কিছু নাতো।তারপর ফের চোখ মুছতে মুছতে জবাব দিলো আমার আবার কী হবে?
দেখো বৃষ্টি কেউ তোমাকে বুঝতে পারোক আর না পারোক আমি কিন্তু জানি তোমার চোখের ভাষা।অন্তত আমার কাছে তুমি কোনো কিছু লুকিও না।আমি তোমাকে যতটা ভালোবাসি তার চেয়ে বেশী ঘৃণা করি তোমার চোখের জলকে।
এটা জানার পরেও তুমি আমার কাছে এসে তোমার জল জড়াও কেন?
অনেকটা অভিমানের সুরে কথাগুলো বললাম আমি।
বৃষ্টি এবার হাউমাউ করে কাদতে লাগলো।আমি কিছু না ভেবে তার মাথাটা আমার কাধে নিয়ে আসলাম।
সে এবার আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাদতে লাগলো।
যেন কত যোগ ধরে কান্না করতে পারে নি মেয়েটি।
আমি কোনো কথা বলি নি।তার চোখের অশ্রুসিক্ত জল আমাকে ভিজিয়ে দিয়েছে।
৪ বছর রিলেশন শিপে এভাবে সে ৪ মিনিট ও কাদেনি।আমি ভাবলাম তাকে কান্নার সুযোগ দেওয়া উচিত। এ কান্নায় মুছের যাবে তার জীবনের সব বিষাদ।বৃষ্টি বললো আজ তোমাকে কিছু বলার আছে আমার। আমি তাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম তোমাকে বলতে হবে না।আমি মায়ের কাছে তোমার কথা বলেছি! খুব শীগ্রই তোমার মা বাবার সাথে দেখা করবো।বৃষ্টি মৃদু সুরে বললো তা আর প্রয়োজন নেই।আগামী শুক্রবার আমার বিয়ে।আর এই দেখাই আমাদের শেষ দেখা।এটাই বলতে এখানে এসেছি।কী বলছো এইগুলা?
তোমার মাথা ঠিক আছে তো?
হ্যা আমি ঠিক বলেছি এ ছাড়া আমার কোনো আর রাস্তা ছিলো না।আমাকে তুমি ক্ষমা করিয়া দিও।তোমাকে দেওয়া কথা আমি রাখতে পারলাম না।আমি সেলফিশ। আমি কিছু বলার আগেই সে দ্রুত গতিতে চলে গেলো।আমি তার চলে যাওয়ার মুহুর্ত গুলো দেখলাম।
কিছুদিন পর........
আজ বৃষ্টির বিয়ে।বিকাল পাঁচটা এ বাড়িতে ভিন্ন রকম মানুষের আনাগুনা।অনেকেই অনেক কথা বলাবলি করছে।
এদিকে তার বাড়ির চারপাশ জেনারটার দিয়ে অদ্ভুত ভাবে সাজানো হয়েছে।বাড়িতে ভর্তি মেহমান।। তার সব বন্ধুবান্ধবদের সাথে এসেছি আমিও।তাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে।এত সুন্দর আগে দেখিনি।মানুষ ঠিকই বলে বিয়ের সময়ের মেয়েরা অদ্ভুত সুন্দর হয়।এক এক করে সবাই তাকে দেখতে এসেছে। কেউ দেখে চলে যাচ্ছে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।আমি এক পাশে চুপ করে বসে আছি।এতো মানুষ তোমার আমার চোখে চারপাশ টা আজ শূন্য। তার লাল হয়ে যাওয়া ভেজা চোখ কাঁপা হাত আর ভীত চাহনিতে এতো মায়া কেন?
আপন স্বজন সবাই কে ত্যাগ করে চলে যাবে। এই জন্যই কী জীবন এতো সুন্দর
প্রত্যেক টা মেয়েকেই দেখতে হয় জীবনে এমন করুণ দৃশ্য। বৃষ্টি আজ লাল বেনারসির পরিবর্তে ধবধবে সাদা শাড়ি পড়েছে।তার জন্য উঠানের এক কোণে পালকি রাখা হইয়াছে। সে অধিক আগ্রহে অপেক্ষা করছে।সেই পালকিতে তাকে কখন উঠানো হবে।
এই জগত সংসারে মায়ার ইন্দ্রজাল থেকে বৃষ্টি আজকে মুক্ত।আজকের দিনে কারো মুখে চোখের জল মানায় না।আজকের দিনে জল বেমানান। একটি মেয়ে তার অভিশাপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পাবে।এর চেয়ে সুখের সংবাদ আর কী হতে পারে?
আর এইদিকে আমার মনে হচ্ছে আমি চিৎকার করে বলছি!বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি কিন্তু সে শুনছে না।আসলে আমার ডাক তার শুনা উচিত না।
সে এখন সুখময় জীবনে পা রেখেছে।
কেন অযথা আমার ডাকে সাড়া দিয়ে সুখের ঘরে আগুন জ্বালাবে।
মনে হচ্ছে ঘুমন্ত বৃষ্টির আত্ব্যা আমাকে বলছে! আমাকে ক্ষমা করে দাও ! তোমার সাথে আর দেখা হবে না হয়তো আমার ।
নিয়তির কাছে আজ আমি পরাজিত।
ক্ষমা করে দিও এই আমাকে।
গল্প:বৃষ্টির_বিয়ে।


